প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বার, ২০২৫, ১১:০০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হাতীবান্ধায় নদীতীর ও ফসলি জমিতে চলছে অবাধে মাটি লুট: হুমকির মুখে কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

 

মোঃ শাহজাহান আলী শামীম হাতীবান্ধা প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার একটি এলাকায় ফসলি জমি ও তিস্তানদীর তীর থেকে অবাধে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিনের পর দিন মাটি কেটে ইটভাটা ও বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। এর ফলে তিন ফসলি জমিগুলো পুকুর ও ডোবায় পরিণত হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।

🌾 উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষিজমি

উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে তিস্তানদীর পাড়ের পার্শ্ববর্তী জমিগুলো থেকে মাটি কাটার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, জমির উপরিভাগের ১০ থেকে ১৫ ইঞ্চি গভীরের পলিমাটিকেই 'মাটির প্রাণ' বলা হয়, যা জমির উর্বরতার মূল উৎস।

  • গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়ায় মাটির এই উর্বরতা শক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

  • কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার এই উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হলে তা প্রাকৃতিকভাবে পূরণ হতে অন্তত ১৫ বছর সময় লাগে।

  • অব্যাহতভাবে কৃষিজমি বিলুপ্ত হওয়ায় ফসলের উৎপাদন কমছে এবং বহু কৃষক জীবিকা হারাচ্ছেন।

🚧 বিপর্যস্ত গ্রামীণ সড়ক

মাটি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রাক্টরগুলো অবাধে চলাচল করায় সিংগীমারী ইউনিয়নের গ্রামীণ ও কাঁচা সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

  • সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং হাঁটু পরিমাণ ধুলা-বালি জমে যাচ্ছে।

  • এলাকার সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এই অবৈধ কাজের কারণে পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে জমির উর্বরতা হ্রাস, পরিবেশ দূষণ এবং গ্রামীণ অবকাঠামো ধ্বংস হলেও স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে জানা যায়।

🏛️ প্রশাসনের নীরবতা

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক রক্ষায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।

মন্তব্য করুন