প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বার, ২০২৫, ১২:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মধ্য সিংগীমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ১ ডিসেম্বর, সোমবার, সকাল ১১টায় বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১২০ জন হলেও, শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ৪ জন।
এই চারজন শিক্ষককে দিয়েই একসঙ্গে সব শ্রেণির ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে সমস্যা আরও বড় আকার ধারণ করে।
শিক্ষক স্বল্পতায় ব্যাহত ক্লাস, ফিরে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় সহকারী শিক্ষক আব্দুল মালেক শিক্ষক সংকটের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, "শিক্ষক কম থাকায় আমাদেরও ক্লাসের অতিরিক্ত চাপে থাকতে হয়। কোনো শিক্ষক যদি অসুস্থ হন, তখন ক্লাস হয় না। ছাত্র-ছাত্রীরা তখন স্কুলে এসে ফিরে যায়।"
তিনি জানান, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে তারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নতুন শিক্ষকের চাহিদা দিয়েছেন। অফিস থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে তাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষক দেওয়া হবে। তখন ক্লাসের সমস্যা দূর হবে এবং পাঠদান আরও সুন্দরভাবে হবে।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য: মনোযোগে বিঘ্ন ঘটছে
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সম্রাট জানায়, "আমাদের স্কুলে স্যার ও ম্যাডামরা ভালোভাবে ক্লাস নেন। কিন্তু চারজন স্যার-ম্যাডাম দিয়ে সব শ্রেণিতে ক্লাস নেওয়া হয়। এতে ক্লাসের মনোযোগের বিঘ্ন ঘটে।" সে আরও বলে, "মাঝে মাঝে কোনো স্যার ছুটিতে থাকলে আমাদের ক্লাসগুলো ঠিকমতো হয় না। আমাদের স্কুলে আরও দুইজন শিক্ষক থাকলে ভালো হতো। তখন পড়াশোনায় আরও ভালো মনোযোগ বসতো।"
অভিভাবকের উদ্বেগ ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক কম থাকা সত্ত্বেও লেখাপড়ার মান মোটামুটি ভালো। তবে আরও নতুন করে দুইজন শিক্ষক থাকলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হতো।
একজন অভিভাবক বলেন, "আমার বাচ্চা প্রতিদিন স্কুলে আসে। শিক্ষক কম থাকায় তাদের ক্লাসের মনোযোগ থাকে না। বাচ্চাদের মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য নতুন শিক্ষক খুবই প্রয়োজন।"
উপজেলা শিক্ষা অফিসের আশ্বাস
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বেলাল হোসেন এই বিষয়ে বলেন, "আমাদের কাছে নোট করা আছে কোন কোন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের কম চাহিদা রয়েছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে সেই স্কুলগুলোতে শিক্ষক দেওয়া হবে। তখন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ক্লাসের অপূর্ণতা আর থাকবে না।"
শিক্ষাবিদ ও স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে মধ্য সিংগীমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তার শিক্ষার মান ধরে রাখতে সক্ষম হবে।
মন্তব্য করুন