প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের আধিক্য রয়েছে। মোট বৈধ প্রার্থীর প্রায় ৭৬ শতাংশই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে উচ্চশিক্ষার হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলভিত্তিক উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর) প্রার্থীর হার
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
রাজনৈতিক দল/ক্যাটাগরি - উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর হার (%)
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী - ৯৩.৭%
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) - ৮৬.৪%
বিএনপি (BNP) - ৮০.৮%
স্বতন্ত্র প্রার্থী - ৭৮%
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ - ৭৫.৭%
গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) - ৫৯%
জাতীয় পার্টি - ৫৫.৮%
পরিসংখ্যান একনজরে
মোট বৈধ প্রার্থী: ১,৮৪২ জন (৪ জানুয়ারি পর্যন্ত যাচাই-বাছাই শেষে)।
স্নাতকোত্তর প্রার্থী: ৮৭৬ জন (৪৭.৬%)।
স্নাতক প্রার্থী: ৫২২ জন (২৮.৩%)।
অন্যান্য: উচ্চমাধ্যমিক ৯.৪%, মাধ্যমিক ৬.১% এবং মাধ্যমিকের নিচে বা স্বশিক্ষিত ৮.৬%।
প্রধান দলগুলোর বিস্তারিত তথ্য
জামায়াতে ইসলামী: দলটির ২৫৭ জন উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর মধ্যে ২০০ জনই স্নাতকোত্তর। মাত্র ৩ জন প্রার্থী নিজেকে 'স্বশিক্ষিত' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিএনপি: মোট ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৩৫ জন উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক ১০৮ ও স্নাতকোত্তর ১২৭)।
জাতীয় পার্টি: ১৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮২ জন উচ্চশিক্ষিত। তবে দলটির ২৪ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিকের নিচে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
বিপুল সংখ্যক উচ্চশিক্ষিত প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বিশেষজ্ঞরা কিছু বিষয়ে সতর্ক করেছেন:
"একাডেমিক শিক্ষার চেয়ে দেশপ্রেম, সততা এবং মানুষের সেবা করার মানসিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে অনেক উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দেখা গেছে।"
— অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল ডিগ্রি থাকলেই ভালো আইনপ্রণেতা হওয়া যায় না; এর জন্য প্রয়োজন প্রজ্ঞা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের সংবিধানে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই।
মন্তব্য করুন