প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কালিগঞ্জে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী জনসভায় মানুষের ঢল

মোঃ বোরহান উদ্দিন
কালিগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় জনসমুদ্রে পরিণত হয় কাকিনা মহিমা রঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আজ  পহেলা ফেব্রুয়ারি  বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কাকিনা ইউনিয়নে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাগরিবের নামাজের পরপরই কাকিনা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিল সহকারে জনসভা প্রাঙ্গণে এসে জড়ো হন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অল্প সময়ের মধ্যেই জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
জনসভায় ১১ দলীয় জোটভুক্ত দল এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) মোঃ রাসেল মিয়া এবং লালমনিরহাট জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সেজ্জাদুল শীষ বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন,
“আদিতমারী ও কালিগঞ্জে অনেকেই বলেছিল দাঁড়িপাল্লার কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। কিন্তু আজ বাস্তবতা হলো—গোটা দেশ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। এবারের নির্বাচনে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত।”
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী–কালিগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
“যারা জুলাই যোদ্ধাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, যারা শহিদ ওসমান হাদিদের পক্ষে দাঁড়ায় না এবং ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে যায়—তাদেরকে এই জাতি কখনো গ্রহণ করবে না।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারী ও বেকারদের জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি ছাত্র ও কৃষকদের জন্য বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে, যা পরবর্তীতে চাকরি বা আয়ের মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।
ক্রীড়াপ্রেমীদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, আদিতমারী ও কালিগঞ্জ—এই দুই উপজেলায় একটি করে আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন,
“বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।”
এডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু আরও বলেন,
“আমরা সংখ্যালঘু কিংবা কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে রাজনীতি করি না। বরং ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য দাঁড়িপাল্লার কোনো বিকল্প নেই।”
জনসভা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা জানান, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত এই জনসভা তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনেকেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য করুন