প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
চন্দ্রপুরের ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ রক্ষা ও এলাকাকে মাদকমুক্ত ঘোষণার দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল ৪টায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র মাঠ ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ দখল ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে, যা স্থানীয় কিশোর-তরুণদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চন্দ্রপুরের ঐতিহাসিক খেলার মাঠ শুধু একটি খোলা জায়গা নয়; এটি এলাকার ঐতিহ্য, সামাজিক ঐক্য ও তরুণ প্রজন্মের বিকাশের কেন্দ্র। এখান থেকেই বহু ক্রীড়াবিদ, শিক্ষক, প্রকৌশলী ও সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেছেন। কিন্তু বর্তমানে মাঠের চারপাশে অবৈধ স্থাপনা তৈরি ও দখল কার্যক্রমের কারণে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাঠের আশপাশে জায়গা দখল করা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটছে। এর ফলে অনেক কিশোর-তরুণ মাদকের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে এবং পরিবারগুলো চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে মাঠ দখলের প্রক্রিয়া চলেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। বর্তমানে মাঠের পরিসর এতটাই সংকুচিত হয়েছে যে খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম জায়গাও অবশিষ্ট নেই।
সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়—
চন্দ্রপুর খেলার মাঠ ও আশপাশের সকল অবৈধ দখল দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে।
এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে কেউ প্রভাব খাটিয়ে পার না পায়।
মাঠকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে স্থায়ীভাবে রক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চালু করতে হবে।
বক্তারা বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন। তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে এ ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান— দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে চন্দ্রপুরকে একটি মাদকমুক্ত ও দখলমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে আয়োজকরা বলেন, “চন্দ্রপুরের খেলার মাঠ আমাদের গর্ব, আমাদের ইতিহাস ও আমাদের ভবিষ্যৎ। এই ঐতিহ্য রক্ষায় আমরা শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকব।”
মন্তব্য করুন