প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ: লালমনিরহাট-২ আসনে বিতর্কিত যোগদান, তৃণমূলে ক্ষোভ

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি 

(মো শামীম ইসলাম)

লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ–আদিতমারী) আসনে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি, রবিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার গোরল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগদান করানোকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল একটি নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে নুরুল আমিনকে প্রকাশ্যে মঞ্চে তুলে দলে যোগদান করান। এ সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নুরুল আমিন বলেন,
“রোকন উদ্দিন বাবুল আমার পাশে থাকলে আমার আর কিছু লাগে না।”
এই বক্তব্য ও যোগদান ঘিরে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, যেসব ব্যক্তি অতীতে বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, মামলা-হামলা ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন—আজ তাদেরই রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের অংশ হিসেবে দলে টেনে নেওয়া হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী বলেন,
“আমরা রাজপথে মার খেয়েছি, মামলা খেটেছি, অনেকেই ঘরছাড়া হয়েছি। অথচ যারা আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, আজ তাদের ফুলের মালা দিয়ে দলে নেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।”
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, এ ধরনের বিতর্কিত যোগদান শুধু দলের আদর্শকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। তারা মনে করছেন, আদর্শ ও ত্যাগের রাজনীতি থেকে সরে এসে সুবিধাভোগী ও সুযোগসন্ধানী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
সমাবেশ চলাকালীন সময়েই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেকে। কেউ কেউ বলেন,
“একটির পর একটি আওয়ামী লীগের লোকজনকে দলে নেওয়া হলে তৃণমূলের কর্মীদের মূল্য কোথায় দাঁড়ায়?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের যোগদান স্বল্পমেয়াদে কিছু সাংগঠনিক সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে দলীয় ঐক্য, বিশ্বাস ও তৃণমূলভিত্তিকে দুর্বল করে তুলতে পারে।

মন্তব্য করুন