প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
শাহজাহান আলী শামীম
হাতীবান্ধা উপজেলা প্রতিনিধি :
মহিলা জামায়াত কর্মীদের হিজাব খুলতে বলাকে কেন্দ্র করেই লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিকেল মোড় সংলগ্ন কসাইটারী এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক এসব তথ্য জানান। এ সংঘর্ষে উভয় দলের অন্তত ২৬ জন নেতাকর্মী আহত হন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর দাড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে রবিবার বিকেলে মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা ওই এলাকায় গণসংযোগে যান। একই সময়ে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধানের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নেতাকর্মীরাও সেখানে গণসংযোগে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী মহিলা জামায়াত কর্মীদের হিজাব খুলতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে জামায়াতের পুরুষ নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও বাড়িঘরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এক মহিলা জামায়াত কর্মী বলেন,
“আমরা ভোটের জন্য গণসংযোগে গিয়েছিলাম। এটা আমাদের অধিকার। আমরা ঝগড়া করতে আসিনি, শান্তভাবে ভোট চাইতেই গিয়েছিলাম।”
জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন,
“খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসি। এসে জানতে পারি হিজাব খোলার কথা বলাকে কেন্দ্র করেই ঘটনাটি শুরু হয়। সামান্য বিষয় থেকেই এমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন,
“এই ঘটনা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করেছে। এর আগে জেলায় এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা শতভাগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করব এবং যার যতটুকু দায়িত্ব, তার বিরুদ্ধে ততটুকু ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন