প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
হাতীবান্ধা প্রতিনিধি :
ভোটের মাঠে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায়। হিজাব পরিহিত অবস্থায় ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ জানুয়ারি রোজ রবিবার জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নারী কর্মী পর্দার বিধান মেনে হিজাব পরিহিত অবস্থায় ভোট চাইতে বের হলে বাধার মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত করার অজুহাতে তাদের হিজাব খুলে মুখ দেখাতে চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এক পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে হাতীবান্ধা থানা পুলিশ। পরে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এস এম রকিব হায়দার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
এদিকে, জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রশ্ন—“হিজাব পরে ভোট চাওয়ার কি কোনো নাগরিক অধিকার নেই?” তাদের দাবি, ধর্মীয় পোশাককে কেন্দ্র করে ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিয়ে এই সহিংসতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যদিকে, অপর পক্ষ ঘটনার জন্য পাল্টা অভিযোগ তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরিবেশে ধর্মীয় অনুভূতি ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষ বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও নারী ও ধর্মীয় পোশাককে ঘিরে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখনো টংভাঙ্গা ইউনিয়নে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন