প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ১০:০৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইউএনও ম্যাডামের ওপর আমার কোন ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই।  ছবি ছড়ানোয় ক্ষোভ

‎কালীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

‎লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাটের লাবনা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

‎ বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তদারকির সময় একটি ঘটনাকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হলেও তৎক্ষণিক  তা সমাধান হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউএনও ম্যাডামের ওপর আমার কোন ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই বলেছেন গ্যারেজকর্মী নদী ও তার গ্যারেজ মালিক।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাপারহাট কলেজের অসুস্থ  সহকারী অধ্যাপকের পক্ষে তার মোটরসাইকেল ও ফুয়েল কার্ড নিয়ে গ্যারেজকর্মী নদী (১৮) তেল নিতে লাইনে দাঁড়ান। এসময় দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান কার্ড ও ব্যবহারকারীর তথ্য যাচাই করেন। কার্ডের ছবির সঙ্গে অমিল থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় এবং তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থামানো হয়।

‎পরে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, অসুস্থতার কারণে প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে অন্যজন তেল নিতে এসেছিলেন। বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

‎ঘটনার বিষয়ে ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কার্ড যাচাই করা হয়েছে এবং অনিয়ম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।  ছেলেটিকে আমি হাত ধরে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার  চেষ্টা করছি।

‎এদিকে ভিডিও বার্তায় ভুক্তভোগী গ্যারেজকর্মী নদী বলেন, “তেল নেওয়া সময়ের ঘটনাটি নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তৎক্ষণিক  বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। ইউএনও ম্যাডামের ওপর আমার কোন ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই।

‎এবিষয়ে নদীর গ্যারেজ মালিক প্রদিপ চন্দ্র রায়  বলেন, গ্রাহকে গাড়ি নিয়ে আমার দোকানে ছেলেকে (গ্যারেজকর্মী) তেল নিতে পাঠিয়ে ছিলাম। ফুয়েল কার্ডের ছবি মিল না থাকায় ইউএনও ম্যাডাম সহএকটু ভূল বুঝাবুঝি হয়ে, তাৎক্ষণিক  সমাধান হয়েছে।

‎তিনি  আরও বলেন, ইউএনও ম্যাডামের ওপর আমাদের কোন  অভিযোগ না আগে ছিলো বা এখনও কোন অভিযোগ  নাই।

‎অন্যদিকে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট গ্যারেজকর্মীর (নদী) ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। এতে তার ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তারা মনে করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয় আরও দায়িত্বশীলভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তারা। অবশ্যই ছেলেটিকে  ভিডিওতে দেখানো উচিত হয় নাই।

‎এবিষয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ (Digital Security Act, 2018): এই আইনের আওতায় কারও সম্মানহানি, মানহানি বা বিরক্তির কারণ হয়, এমন ছবি বা তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিশেষ করে ছবি বিকৃত করা, অপব্যবহার করা বা অপমানজনকভাবে ছড়ানো শাস্তিযোগ্য।

‎উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের সময়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে, যাতে সবার জন্য সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

মন্তব্য করুন